এলএনজিভিত্তিক নতুন কয়েকটি প্রকল্প আগামী বছর চালু হতে পারে। এটি তুরস্ক, ভারত ও জাপানসহ ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করবে। সরবরাহ বাড়ায় সামনের দিনগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির দামও কমে আসতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল আনাদোলু এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানান।
ফাতিহ বিরল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি শুরু হতে পারে ২০২৬ সাল থেকে। পরবর্তী তিন বছর এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’
তিনি জানান, ছয়-সাত বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারে কয়েকটি এলএনজি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তা শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। শিগগিরই এসব প্রকল্প থেকে সরবরাহ করা এলএনজি বাজারে আসবে। ফলে কমে আসবে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম।
আইইএ প্রধান বলেন, ‘নতুন সরবরাহে ইউরোপ, তুরস্ক, ভারত ও জাপানের মতো প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো উপকৃত হবে। সামনের দিনগুলোয় দেশগুলোর বাণিজ্যিক অবস্থান শক্তিশালী হবে।’
আইইএর তথ্যানুসারে, গত বছরে বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহ প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছিল। তবে এটি চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। সে সময় এলএনজি সরবরাহ বেড়েছে মাত্র এক হাজার কোটি ঘনমিটার। চলতি বছর এলএনজি উৎপাদন ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে যাচ্ছে তিন হাজার কোটি ঘনমিটার।
সংস্থাটির দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, উত্তর আমেরিকায় বেশকিছু বড় এলএনজি প্রকল্প চালু হবে। এদিকে কাতারের সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি এলএনজি তরলীকরণ প্লান্টের চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বা নির্মাণাধীন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এ খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতি বছর ২৭ হাজার কোটিরও বেশি রফতানি সক্ষমতা তৈরি হবে।
সাক্ষাৎকারে বিরল উল্লেখ করেন, ইউরোপের দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখিতা ধরে রেখেছে। এতে ভূমিকা রাখছে শীতকালীন আবহাওয়া। তবে মহাদেশটি তার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান কখনো করেনি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে।
আইজিসি প্রধান বলেন, ‘ইউরোপের দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পাঁচ গুণ ও বিদ্যুতের দাম চীনের তুলনায় চার গুণ বেশি।’
বিরল উল্লেখ করেন, রফতানি ইউরোপীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তবে উচ্চ জ্বালানির খরচ ইউরোপের বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব সমস্যার সমাধান না করলে ইউরোপের অর্থনীতি বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে পারে।